28.8 C
Chittagong
Tuesday, 15 September 2026
বাড়িTop Newsক্যাসিনো নয়, চট্টগ্রামের খুলশীর সেই বিল্ডিংয়ে গড়ে উঠেছিল ভয়ংকর 'সাইবার ক্রাইম' আস্তানা

ক্যাসিনো নয়, চট্টগ্রামের খুলশীর সেই বিল্ডিংয়ে গড়ে উঠেছিল ভয়ংকর ‘সাইবার ক্রাইম’ আস্তানা

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, গ্রেফতার ৬৩ জনের কারো কাছেই পাসপোর্ট-ভিসা পাওয়া যায়নি

  CNN Bangladesh

ফজলুর রহমান সম্রাট, চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার এক বিশাল কারখানা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সেই ‘ডিজিটাল আস্তানা’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। একে একে ১৪টি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে লাওস, পাকিস্তান, চীন, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ জন নাগরিককে।

- Advertisement -nagad

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে শুক্রবার সকালে যোগ দেয় বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটও। আটতলা ওই ভবনটি ঘিরে ফেলে একে একে তল্লাশি চালানো হয়।

শুক্রবার বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে লাওসের ৩৪, পাকিস্তানের ২১, চীনের ৫, নেপালের ২ ও ভিয়েতনামের ১ জন রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

পুলিশের ধারণা, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশকে। দেশীয় একটি চক্রের সহায়তায় দেড় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই ভবনটি তারা মোটা অঙ্কের টাকায় ভাড়া নেয়।

ভবনের ভেতরে সার্ভার, কম্পিউটার বসিয়ে খোলা হয়েছিল ভুয়া ওয়েবসাইট। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করাই ছিল তাদের মূল টার্গেট।

স্থানীয়রা আগেই সন্দেহ করেছিলেন। নীরবে যাতায়াত, আগের ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করে মোটা টাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়া— সবকিছুই ছিল রহস্যজনক। কেউ কেউ ভেবেছিলেন ভবনে অবৈধ ক্যাসিনো চলছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, গ্রেফতার ৬৩ জনের কারো কাছেই পাসপোর্ট-ভিসা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো দেশীয় চক্রের কাছে রয়েছে।

এ ঘটনায় খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে গত ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন ও ল্যাপটপসহ ৬ বিদেশি গ্রেফতারের ঘটনার সঙ্গেও এই চক্রের যোগসূত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »