31.6 C
Chittagong
Sunday, 20 September 2026
বাড়িজাতীয়কাজিদের ফি'র ভাগ চায় সরকার 

কাজিদের ফি’র ভাগ চায় সরকার 

 

মুসলিম বিয়েতে দেনমোহরের বিপরীতে কাজিরা (ম্যারেজ রেজিস্ট্রার) যে টাকা আদায় করেন, তার একটা অংশ সরকারি কোষাগারে নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সেই সঙ্গে এ খাতে টাকা লেনদেন ডিজিটালাইজ করারও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

- Advertisement -nagad

রোববার (৩১ জুলাই) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে গত মার্চ মাসের বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনে আলাদা ‘দুই ধরনের’ খাতা রেখে ‘কাজির’ বাড়তি ফি আদায় ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘যতদিন আমি বর্ষা বেঁচে আছি, বাচ্চাটাকে দেখাশোনা করবো’

বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন বছরে তিন পার্বত্য এলাকা ছাড়া সারা দেশে ২০ লাখ ২০ হাজার ৭৪৯টি বিয়ে হয়েছে। এসব বিয়েতে দেনমোহরের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৯৪০ কোটি ৬৯ লাখ ৬ হাজার ৩৫১ টাকা। এর বিপরীতে কাজিরা আদায় করেন এক হাজার ৫৬২ কোটি আট লাখ ৩৩ হাজার ৯৮৭ টাকা। আর সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে মাত্র সাত কোটি ৮৫ হাজার ৪৫৮ টাকা।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯-এ বলা আছে, একজন নিকাহ নিবন্ধক (কাজি) চার লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার টাকার জন্য সাড়ে ১২ টাকা ফি নিতে পারবেন। দেনমোহর চার লাখের বেশি হলে এর পর থেকে প্রতি এক লাখ বা অংশ বিশেষের জন্য ১০০ টাকা নিবন্ধন ফি নিতে পারবেন। তবে সর্বনিম্ন ফি হবে ২০০ টাকা। তালাক নিবন্ধনের ফি ৫০০ টাকা। একজন নিবন্ধক বছরে সরকারি কোষাগারে ১০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি এবং নবায়নের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জমা দেন।

কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, এই যে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় হচ্ছে, এখানে সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে খুব অল্প টাকা। কাজিদের আদায় করা টাকার একটা অংশ যাতে সরকারি কোষাগারে যেতে পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এখানে বিধিমালা পরিবর্তনের বিষয় আছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতির বিষয় আছে। আইন মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো দেখবে।

আর্থিক বিষয়গুলো ডিজিটালাইজড করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, এ কাজের জন্য মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন ও বিধিমালায় সংশোধন দরকার হবে। এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বিবাহ নিবন্ধন ফি সহজ করতে এবং জনভোগান্তি হ্রাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং কাজিদের কার্যক্রম মনিটরিং করার সুপারিশ করা হয়েছে।

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »