পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় ছোট ভাইয়ের বাইক থেকে ছিটকে পড়ে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় বড় বোনের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম রাফেজা সুলতানা উর্মি (৩৫)। রবিবার বেলা ১২.১০ মিনিটের সময় চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার মৃত রুহুল আমীন রিজভীর মেয়ে। পেশায় সে স্হানীয় কৈয়গ্রাম এলাকার পরশমণি শিক্ষা নিকেতন স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার সকালে ছোট ভাই রাশেদুল আমিন রিজভী বাবুর মোটরসাইকেলে ছড়ে কৈয়গ্রাম এলাকার গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসে স্মার্ট এনআইডি কার্ড নিতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথেই মহাসড়কের জঙ্গলখাইন ফুলকলি কারখানার সামনে আসতেই হঠাৎ চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই দ্রুতগামী একটি কার্ভাড ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে তার একটি পা থেথলে যায়। এসময় গুরতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তি করার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত স্কুল শিক্ষিকা উর্মির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা এগারোটার দিকে ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেলে করে পটিয়া যাওয়ার পথেই হঠাৎ বাইক থেকে বড় বোন ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এ সময় দ্রুতগামী একটি কাভার্ড ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে তার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি চালকসহ পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ।
অপরদিকে, নিহতের বড়ভাই মো. রফিকুল আমিন রিজভী রুবেল বলেন, ছোট ভাইয়ের বাইকে চড়ে উর্মি পটিয়া নির্বাচন অফিসে যাচ্ছিলেন। পথেই মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় আমার ছোট বোন উর্মি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রবিবার রাতে এশার নামাজের পর নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া জঙ্গলখাইন প্রান্তে মোটরসাইকেল থেকে এক নারী আরোহী ছিটকে পড়ে কাভার্ডভ্যান চাপায় গুজরত আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে শুনেছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করছি।

