27.2 C
Chittagong
Tuesday, 21 April 2026
বাড়িTop Newsনিজের ও পরীমনির ঘটনায় ‘মিল খুঁজে পান’ তসলিমা নাসরিন

নিজের ও পরীমনির ঘটনায় ‘মিল খুঁজে পান’ তসলিমা নাসরিন

 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি কারামুক্তির পর তার বাসায় ফিরেছেন। তাকে গ্রেফতারের শুরু থেকেই সরব ছিলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রিমান্ড ও কারাভোগের পর পরীমনি যখন বাসায় ফিরলেন তখনো তার জন্য আক্ষেপ করলেন তসলিমা। এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন লেখিকা। সেখান থেকে জানা যায়, তিনি নিজের ও পরীমনির ঘটনায় মিল খুঁজে পান।

- Advertisement -nagad

পরীমনি কারামুক্তির পর বাড়ি ছাড়ার নোটিশ পেয়েছেন বলে খবর ছড়ানো হয়। যদিও পরে এ নায়িকা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এমন কোনো নোটিশ তিনি পাননি বা তাকে দেওয়া হয়নি।

তবে ছড়ানো সেই খবরেই ভিত্তি করে তসলিমা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘পরীমনি জেল থেকে বের হলো, বাড়িতে ঢুকল আর দেখল তাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে বাড়িওয়ালা। এই ভয়ংকর দুঃসময়কে আমি খুব ভালো জানি, যেহেতু নিজের জীবনেই ঘটেছে এমন ঘটনা। মনে পড়ছে কলকাতার সেই দিনগুলোর কথা। ৭ নম্বর রওডন স্ট্রিটে ডা. দেবল সেনের বাড়িতে আমি তখন ভাড়া থাকি। ২০০৭ সাল। পুলিশ কমিশনার এসে জানিয়ে যাচ্ছেন আমাকে দেশ ছাড়তে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী, দেশ যদি আপাতত নাও ছাড়ি, রাজ্য আমাকে আজ বা কালের মধ্যেই ছাড়তে হবে। দেশের দরজা বহুকাল বন্ধ। ইউরোপ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণের টানে আর ভাষার টানে আশ্রয় নিলাম, আর আমাকে কি না এই আশ্রয়টিও ছাড়তে হবে, কোথাও তো আর ঘর বাড়ি নেই আমার, যাব কোথায়!’

তসলিমা নাসরিন আরও লেখেন, ‘আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নিতে চাইছে কারা! আমি সম্ভবত যতো না রাজনীতিকদের ষড়যন্ত্রের শিকার, তার চেয়ে বেশি শিকার সাহিত্যের মাফিয়া ডনদের রাজনীতির। যখন আশপাশে কেউ নেই, বিপদ দেখে বন্ধুদের উপস্থিতি একশ থেকে প্রায় শূন্যে চলে এলো, একা একা আমি চিৎকার করছি, আমি রাজ্য ছাড়ব না, শহর ছাড়ব না, বাড়ি ছাড়ব না, কারণ আমি কোনো অন্যায় করিনি, আমি মানবতার কথা লিখি। মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করা, মানবতার কথা লেখা অন্যায় তো নয়!’

নির্বাসিত লেখিকা বলেন, ‘ভালোবেসে এক বাঙালি লেখক বাংলায় বাস করছে, তাকে বাংলা থেকে বের করে দেওয়া, তাকে নিষিদ্ধ করা মানে তার লেখক সত্তাকে ধ্বংস করে দেওয়া। তাই আমি অস্বীকার করেছিলাম রাজ্য ছাড়তে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যখন ফোন করে বললেন আমাকে রাজ্য ছাড়তেই হবে, বুঝলাম যাদের উচিত ছিল পাশে দাঁড়াবার, তারাই পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। কলকাতা তো দেখিয়ে দিয়েছে লেখকেরা কী করে আরেক লেখকের বই নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়, লেখকেরা কী করে আরেক লেখকের সর্বনাশ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

‘চারদিক থেকে যখন অন্ধকার নেমে আসছে, তখন আমার বাড়িওয়ালা আমাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছিলেন! সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীই বাড়িওয়ালাকে বলেছিলেন ওই নোটিশটি দিতে। ষড়যন্ত্র কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা সেদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।’

নিজের ঘটনার সঙ্গে পরীমনির ঘটনার মিল খুঁজে পান এই লেখিকা। তিনি বলেন, ‘বাড়ি ছাড়ার নোটিশটি হাতে নিয়ে পরীমনি বলছে, আমি এখন কোথায় যাবো, কে আমাকে এই সময় বাড়ি ভাড়া দেবে, আমাকে কি তাহলে ঢাকা ছাড়তে হবে, দেশ ছাড়তে হবে! এরকম আমিও বলেছিলাম সেদিন! পরীমনির অসহায়তা আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করছি।’

‘তবে পরীমনির শত্রু যেমন কম নয়, অনুরাগী শুভানুধ্যায়ীও তেমন কম নয়, তারা এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়াবে, আমার বিশ্বাস। অসহায় আমার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। প্রথমে রাজ্য, তারপর দেশ ছাড়তে আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল।’

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »