স্পোর্টস ডেস্ক, সিএনএন বাংলাদেশ :: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেও, মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। এই আইনি জটিলতার জেরে তার তিন বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হেরে প্যারাগুয়ের বিদায়ের পর প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলার সঙ্গে ফরাসি তারকার এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার শুরু হয় এমবাপ্পের বংশপরিচয় নিয়ে সিনেটর আমারিলার করা একটি বর্ণবাদী মন্তব্যের জেরে। ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে এর কড়া জবাব দিয়ে ওই সিনেটরকে ‘পদের অযোগ্য এক জঘন্য নারী’ বলে আখ্যা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে উল্টো মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আমারিলা। তার আইনজীবীর দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্যারাগুয়ের আইনে এমবাপ্পের সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল হতে পারে এবং এর জন্য বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিও কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে, নিজের করা আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ফ্রান্সেও বর্ণবাদের তদন্তের মুখে পড়েছেন ওই নারী সিনেটর। ফরাসি নিয়ম অনুযায়ী সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানা এবং এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
সিনেটর নিজের মন্তব্যকে ‘বাকস্বাধীনতা’ বলে দাবি করলেও, এই ঘটনা এরই মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ মহলে এক কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ তৈরি করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘরের ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিনেটরের এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কোনোভাবেই তাদের দেশের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না। নিজ দেশের প্রেসিডেন্টের পরোক্ষ তিরস্কারের পরও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মাঠে অসদাচরণের নতুন অভিযোগ এনেছেন ওই সিনেটর। ফুটবল মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে এমবাপ্পে ও আমারিলার এই তীব্র আইনি লড়াই এখন হয়তো আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় গড়াবে।

