পেশাদার এক ডোম ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। সম্প্রতি বেতন কম ও চাকরি সরকারিকরণ না হওয়াসহ নানা অভিমানে তিনি আসছেন না মর্গে। সরকারিভাবে একজন ডোম থাকলেও তার ‘হাত তেমন ভালো না’ বলে অভিযোগ।
ফলে অনেকটা ধীরগতিতে হচ্ছে ময়নাতদন্ত। মরদেহ মর্গেই পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রিয়জনের মরদেহের এমন হাল দেখে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন মরদেহ বেশি আসায় ময়নাতদন্তের ধীরগতি হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চমেকের মর্গে দীর্ঘদিন ধরে ডোমের কাজ করছিলেন কদম আলী নামে এক ব্যক্তি। প্রায় দেড় যুগ ধরে এ কাজ করে গেলে তার চাকরি সরকারি হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে তাকে বেতন দেওয়া হতো মাত্র তিন হাজার টাকা। সম্প্রতি নানা কারণে কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। গত শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে তাকে দেখা যাচ্ছে না হাসপাতাল এলাকায়।
এদিকে সরকারিভাবে হাসপাতালে রয়েছে এক ডোম ও তার দুই সহযোগী। তাদের কাজ ধীরগতি বলে অভিযোগ স্বজনদের। তারা বলছেন, শুক্রবার থেকে এই মর্গে আসা মরদেহের ময়নাতদন্ত যথাসময়ে হচ্ছে না। শুক্রবারে আসা মরদেহের অনেককেই ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে শনিবারে। আবার শনিবারে মর্গে আনা মরদেহের স্বজনদের কেউ কেউ রোববারেও বুঝে পাননি। এতে করে মর্গেই পচেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে মরদেহ।
রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মরদেহের জন্য অপেক্ষমান রোগীর চাচা এনায়েত বলেন, তার ভাতিজা রুবেলের মরদেহ আনা হয়েছে ২৪ ঘণ্টারও বেশি হয়েছে। এখনো মরদেহ কাটার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কেউ এ বিষয়ে কথাও বলছেন না।
মুঠোফোনে জানতে চাইলে কদম আলী বলেন, আমি তো সরকারি কেউ না। আমি না আসলে অসুবিধে কী? আমাকে বেতন দেওয়া হয় তিন হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে সংসার চলে? এখানে অনেকেই আমার নাম দিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেয়। বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা উল্টো আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাই আমি আসছি না।
এ বিষয়ে চমেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সুমন মুৎসুদ্দী বলেন, মরদেহ কাটার জন্য সরকারি লোক রয়েছেন। তারা কাজ করছেন। আজও (রোববার) ছয়জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্বজনদের মরদেহ পেতে একটু দেরি হচ্ছে।

