রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ মার্চ) সকালে নিহতের স্ত্রী কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে শাহজাহানপুর থানায় করা এ মামলায় তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুর মানামা ভবনের সামনে পৌঁছামাত্র দুর্বৃত্তরা টিপুর ওপর হামলা করে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে টিপু ও রিকশা আরোহী সামিয়া আফনান প্রীতি (২২) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হন। আর গুলিতে আহত হন টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না (৩২)। তাকে উদ্ধার করে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ তিনজনকে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেয়। সেখানে রাত পৌনে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক টিপু ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারি ইনচার্জ (এএসআই) মো, আব্দুল খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী, পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত টিপু মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন।
টিপুর স্ত্রী ডলি আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর। এছাড়া নিহত প্রীতি বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী।
টিপুর গাড়িচালক মুন্না জানান, গতকাল রাতে মতিঝিল এজিবি কলোনি থেকে গাড়িতে করে বাগিচার বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে শাজাহানপুর আমতলা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে গাড়ির ভেতর থাকা তারা দুজন ও প্রীতি গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক টিপু ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিতে আহত মুন্নাকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত কলেজছাত্রী প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া জানান, প্রীতির বাসা শান্তিবাগ মগা হাজীর গলিতে। আর তার বাসা তিলপাপাড়া। রাতে তারা বাইরে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। সুমাইয়া প্রীতিকে শাহজাহানপুরের রেলগেট থেকে রিসিভ করে তিলপাড়ায় তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। রিকশাযোগে যাওয়ার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। কে বা কারা গুলি করেছে তা বলতে পারেননি তিনি।
ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

