দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বেড়েই চলছে। গত দেড় বছরে ১১৭ শতাংশ জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় ফ্লাইটের টিকিটের দামও বেড়ে গেছে। এ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দেশীয় এয়ারলাইন্স ব্যবসায়ীরা।
বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, দেশে গত ১৮ মাস ধরে ননস্টপ জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। কোভিড মহামারীর সময় যখন সব কিছু বন্ধ, তখনও জেট ফুয়েলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে ১৩ টাকা বেড়েছে, ওটাকে আমি হিসেবে ধরছি না। আমি ১৮ মাসের হিসেব ধরে কথা বলছি। ৫৪ টাকা দাম বেড়েছে এই সময়ে। এটা কতটুকু যৌক্তিক আমি জানি না। এখন বলা হচ্ছে যুদ্ধের কারণে দাম বেড়েছে জেট ফুয়েলের, তাহলে কোভিডকালে কেন দাম বাড়বে?
কোভিডের ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার যখন এভিয়েশন খাতে ভর্তুকি দিয়ে গেছে, তখনও দেশে জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন কামরুল।
ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের এই কর্মকর্তা বলেন, কোভিড পরবর্তী ধকল কাটিয়ে এভিয়েশন খাতটা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ পেয়েছে। এ সময় এই খাতের পাশে থাকতে হবে। না হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমরা পেরে উঠব না। দেখা যাবে দিন শেষে বাজারটা রয়ে গেছে, কিন্তু সেটা চলে যাবে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে।
উড়োজাহাজ চালাতে যে খরচ, তার একটি বড় অংশ হয় জ্বালানির পেছনে। ফলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই টিকেটের দাম বাড়বে। আর ভাড়া বেড়ে গেলে দেশের ভেতরে বিমানে ওড়ার যাত্রী কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন কামরুল।
এভিয়েশন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, কোভিডের আগেও ঢাকা থেকে যশোরের ভাড়া ছিল ৩ হাজার টাকার আশপাশে। তিন হাজার টাকায় ঢাকা-সৈয়দপুর টিকেটও পাওয়া যেত। কিন্তু এখন চার হাজারের নিচে কোনো গন্তব্যের টিকেট নেই ইউএস বাংলায়।
আরও পড়ুন: করোনায় দেশে দারিদ্র্য বাড়ার তথ্য মনগড়া: তথ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, গত ১৮ মাসে ১৪ বার বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম। আর এই সময়ে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক দফায় ১৫ টাকা করে বেড়েছে।
এরপর ইউক্রেইন যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ায় দেশেও ফের দাম বাড়ানোর আলোচনা চলছে।
এয়ারলাইন্সগুলোর আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্য বলছে, গত এক বছরে জেট ফুয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে ১২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ এভিয়েশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালের দিকে একবার অনেকটা বেড়েছিল জেট ফুয়েলের দাম। এভাবে তেলের দাম বাড়লে ডমেস্টিক ফ্লাইট পরিচালনায় প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। সামনে ঈদের কারণে যাত্রীর চাপ বেশি থাকবে। এয়ারলাইনসগুলোও এ সময় বেশি ফ্লাইট চালায়। তখন দেশি এয়ারলাইনসগুলো বেশি চাপে পড়বে। আর আল্টিমেটলি এই দাম বাড়ার খড়গ গিয়ে পড়বে যাত্রীদের ওপর।
নভোএয়ারের হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং মেসবাহ উল ইসলাম বলেন, জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্যের কারণে আমরা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি। এর পরও ভাড়ার তুলনায় খরচ বাড়ছে। বাড়তি এ খরচের ফলে ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে।
জ্বালানির দাম কীভাবে কমিয়ে এয়ারলাইনস ব্যবসাকে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন নভোএয়ারের এই কর্মকর্তা।

