সংবাদ প্রচার করে গণমাধ্যম বিরক্ত করতে পারে। অথবা নেতিবাচক সংবাদ হতে পারে আজিজ কো অপারেটিভের বিরুদ্ধে— এমন আশঙ্কায় হাইকোর্টে রিট করেন এক ব্যক্তি। আর এমন রিটে উল্টো ফেঁসে গেছেন তিনি। আদালতের সময় নষ্ট করায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে।
গণমাধ্যমে অনিয়মের নিউজ ঠেকাতে প্রায়ই নানা তদবির চালায় প্রভাবশালীরা। কখনো ফোন করে, আবার কখনো সরাসরি নিউজ না করতে হুমকি দেয়া হয়। অনেক সময় এসব নিউজ আটকেও দেয়া হয় উচ্চ মহলের নির্দেশে।
এবার এক অভিনব ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমে নিজেদের অপকর্মের নিউজ যাতে প্রচার না হয় সেজন্য হাইকোর্টে রিট করেন আজিজ অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফিনান্স ক্রেডিট সোসাইটির তাজুল ইসলাম। রিট দেখে বিস্মিত বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের বেঞ্চ। রিটে বলা হয়, দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে কোনো তদন্ত করতে না পারে। আর সব শুনে আদালতের সময় নষ্ট ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে রিট করায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা কর হয় রিটকারীকে।
খুরশীদ আলম খান বলেন, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে রিট করার আগে দেখতে হবে যে নিউজটি ছাপা হয়েছে, যে নিউজ প্রচার করা হয়েছে তা কতটা সঠিক। সেটা যাচাই-বাছাই না করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি উদ্ধারের জন্য, নিজেদের অপরাধ কর্ম ঢাকার জন্য ও গণমাধ্যমকে আড়াল করার জন্য এ ধরনের রিট গ্রহণযোগ্য না। এটাই হাইকোর্টের রায়ের বার্তা।
✪ আরও পড়ুন: ৮ বছরেও কারাগারে পৌঁছায়নি মামলার অব্যাহতি পত্র, বিনা অপরাধে কারাবাস জসিমের
এমন রিট করায় দুদক বিএফআইউকে পুরো ঘটনা তদন্ত করতে বলা হয়েছে। আটাশ পাতার পুরো রায়ে আজিজ কো অপারেটিভকে এক হাত নেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে খুরশীদ আলম খান আরও বলেন, এই রিট আদালতের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। এই রিটের জন্য কোর্টের সময় নষ্ট হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট, ২০২২ ইং এর মধ্যে এই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। যদি তা জমা না দেয়া হয় তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, যাতে ১০ লাখ টাকা আদায় করা যায়।
প্রসঙ্গত, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে রিট করার ঘটনায় এই প্রথম এমন আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

