স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট : চট্টগ্রাম :: একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে সারা বছর ধরে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে কম-বেশি অভিযোগ লেগেই থাকে। চট্টগ্রামের সিটির বাইরের এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ তো দূরের কথা উল্টো গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। এতে করে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ভাংচুর এবং ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটছে।
২৬ মে বুধবার সকাল ১১ টায় মানে কোরবানির ঈদের আগের দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। কমবেশি গাছপালা বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। একই সময়ে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করে সন্ধ্যা কিংবা রাতে বা সকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু চট্টগ্রাম শহরের পাশের উপজেলা বোয়ালখালী উপজেলায় বুধবার থেকে পুরো উপজেলায় ৩৬ ঘন্টারও বেশি সময় অর্থাৎ কোরবানির ঈদের দিনও সারাদিন বিদ্যুৎহীন ছিল বোয়ালখালী। রাতে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলেও ১০ বা ২০ মিনিট স্থায়ী সরবরাহ করা যায়নি। যাচ্ছে আর আসছে এভাবেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল শুক্রবারও। এ অবস্থায় বোয়ালখালীবাসী দুর্ভোগোর শেষ ছিল না। অনেকেই কোরবানি দিতে পারেনি বৃহস্পতিবার। পানির হাহাকার ছিল তীব্র। এ সময় ভুক্তভোগীদের অনেকেই তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানান।বৃহস্পতিবার গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও সাব স্টেশন এলাকা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানায় এবং ভাংচুরের চেষ্টা চালায় কিন্তু পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কুরবানির মাংস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী উপজেলাবাসী। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ফ্রিজের রাখতে না পারা মাংস নষ্ট হয়েছে অনেকের।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সামান্য বাতাস কিংবা হালকা বৃষ্টিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়ে যায় বলে তারা জানান।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ নম্বরে যোগাযোগ করলেও সাধারণ গ্রাহকদের ফোন ধরেন না তারা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। আর এসব অভিযোগ শোনার মতো কেউ নেই।
আবার অনেক এলাকায় লাইন মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।
তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা ছিল। অনেকের বাসা-বাড়িতে কুরবানি হয়েছে। মাংস বিলি-বণ্টনও সম্পন্ন হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে মাংস ফ্রিজে রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাংস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাবাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-জোনাল অফিসের ডিজিএম মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

