26.4 C
Chittagong
Tuesday, 4 August 2026
বাড়িTop Newsদেশের গ্যাস পায় না চট্টগ্রাম! আমদানিকৃত এলএনজিই ভরসা প্রায় এক কোটি মানুষের

বাসায় রান্না হচ্ছে না, শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, যানবাহন চলাচলে স্থবিরতা

দেশের গ্যাস পায় না চট্টগ্রাম! আমদানিকৃত এলএনজিই ভরসা প্রায় এক কোটি মানুষের

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ কোটির বেশি মানুষের এই শিল্পনগরীর জন্য ভাসমান টার্মিনালের উপর শতভাগ নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। চট্টগ্রামে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল ও বিকল্প গ্যাস উৎস জরুরি।

  CNN Bangladesh

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সিএনএন বাংলাদেশ :: চট্টগ্রামে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট। চুলায় আগুন নেই। সকালের নাস্তা, দুপুরের ভাত, শিশুর খাবার – কিছুই রান্না হচ্ছে না সময়মতো। কারণ চট্টগ্রামের গ্যাস আসে না কোনো স্থল খনি থেকে। গ্যাস আসে কক্সবাজারের মহেশখালীর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের ট্যাংকি থেকে। আর সেই টার্মিনালেই লেগেছে আগুন।

- Advertisement -nagad

*কীভাবে আসে চট্টগ্রামের গ্যাস?*
চট্টগ্রামে নিজস্ব কোনো গ্যাসক্ষেত্র নেই। এখানকার গ্যাসের পুরো সরবরাহ নির্ভরশীল আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির উপর। বিদেশ থেকে তরল গ্যাস জাহাজে করে আনা হয় মহেশখালীতে। সাগরের উপর ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট গ্রুপের দুটি টার্মিনালে সেই এলএনজি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইনে যুক্ত করা হয়। এরপর সেই পাইপলাইন দিয়েই চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে।

*সংকটের শুরু কবে?*
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে আগুন লাগে। এরপর থেকেই বিপর্যয় নেমে আসে। টার্মিনাল দুটি থেকে আগে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হতো। আগুনের পর তা ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। অর্থাৎ দৈনিক অর্ধেকেরও বেশি গ্যাস ঘাটতি।

*নগরবাসীর ভোগান্তি*
গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে দিনের বেশিরভাগ সময় চুলা জ্বলছে না। দুপুর ও রাতে অল্প কিছু সময় অনিয়মিতভাবে সামান্য চাপ থাকে। তা দিয়েই সারাদিনের রান্না সারতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী, শিশু ও অসুস্থ রোগীর পরিবার। হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ছোট শিল্প কারখানাগুলোও পড়েছে সংকটে।

*কবে স্বাভাবিক হবে?*
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। অর্থাৎ আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

*স্থায়ী সমাধান কোথায়?*
এটি প্রথমবার নয়। ঘূর্ণিঝড়, সিগন্যাল বা রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে আগেও বারবার বন্ধ থেকেছে ভাসমান টার্মিনাল। ফলে পান থেকে চুন খসলেই গ্যাসহীন হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ কোটির বেশি মানুষের এই শিল্পনগরীর জন্য ভাসমান টার্মিনালের উপর শতভাগ নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। চট্টগ্রামে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল ও বিকল্প গ্যাস উৎস জরুরি।

 

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »