30.5 C
Chittagong
Thursday, 23 April 2026
বাড়িTop Newsলাইভ চলাকালে সাংবাদিকের মাইক্রোফোন কেড়ে নিলো পুলিশ

লাইভ চলাকালে সাংবাদিকের মাইক্রোফোন কেড়ে নিলো পুলিশ

 

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ফুটপাত থেকে লাইভ সম্প্রচারের সময় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকের মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

- Advertisement -nagad

রোববার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সীমানা প্রাচীরের বাইরের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় টেলিভিশনটির দুপুরের বুলেটিনে সরাসরি সম্প্রচার চলছিল।

পুলিশি বাধার পুরো ঘটনাটিও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। ওই পুলিশ সদস্য জবরদস্তি সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে সাংবাদিককে পুলিশ বক্সে আটকে রাখার চেষ্টা করেন এবং তাকে উদ্দেশ করে
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাগরিক টিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাইদ আরমান বলেন, আজ (রোববার) বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ করার ঘটনাটি কাভার করতে অন্যান্য গণমাধ্যমের সঙ্গে আমিও সংসদ ভবনের বাইরে ছিলাম। আমরা সকাল থেকে সংবাদ কাভার ও একাধিকবার লাইভ করেছি। তখন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আমাদের কাউকেই বাধা দেননি।

তিনি বলেন, দুপুরে অন্য সব গণমাধ্যমকর্মী চলে গেলেও অফিসের নির্দেশনায় বেলা ২টার সংবাদে লাইভ করার জন্য আমাকে সেখানে অবস্থান করতে হয়। একই সময়ে আবার সংসদের গেটের নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্যদের শিফট পরিবর্তন হয় এবং নতুন পুলিশ সদস্যরা ডিউটিতে আসেন।

সাংবাদিক সাইদ আরমান বলেন, আমি লাইভ শুরু করতেই শাহীন নামের ওই কনস্টেবল আমার দিকে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে লাইভ বন্ধ করতে তিনি আমার হাতে ধরা মাইক্রোফোন কেড়ে নেন এবং ক্যামেরাতেও হাত দেয়ার চেষ্টা করেন। আমি তাকে বার বার বুঝিয়ে বলতে চাইলেও তিনি কোনো কথা শোনেননি।

তিনি বলেন, এরপর আমাকে পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে কিছু আপত্তিকর কথাও বলেন ওই কনস্টেবল। বিষয়টি অফিসকে জানালে তারা সংসদকে জানান। এরপর আমাকে সেখান থেকে আসতে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাকে নাগরিক টিভির পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা ফুটেজটি দেখব। এরপর কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে আগামীকাল (সোমবার) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়া ও সরাসরি সম্প্রচারে বাধা দেয়ার মতো ঘটনা স্পষ্টত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাদান। পুলিশ সদস্যদের এমনটা করার কোনো সুযোগ নেই৷ বাহিনীর পক্ষ থেকেও কখনো এসব করার অনুমতি নেই। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার পর বলা যাবে ঠিক কী ঘটেছিল।

এদিকে সাংবাদিক সাইদ আরমানকে পুলিশ সদস্য হেনস্থা করার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

সংগঠনের সভাপতি মুরসালিন নোমানী এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাইদ আরমান তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। লাইভ চলাকালে তার কাছ থেকে যেভাবে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে এটা ন্যক্কারজনক। এটা স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়।

ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ডিআরইউ নেতারা। একইসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায় ডিআরইউ।

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »