25.8 C
Chittagong
Saturday, 4 April 2026
বাড়িTop Newsইতালির ভেনিসে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের জমকালো আয়োজন

ইতালির ভেনিসে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের জমকালো আয়োজন

 

মোহাম্মদ মেসবাহউদ্দিন আলাল, ব্যুরো প্রধান, ইউরোপ ::  মেজবান‘ ফারসি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো অতিথি আপ্যায়নকারী। গৃহস্থ, আর মেজবানি হলো ভোজের উৎসব বঝায়। এই সর্বপ্রথম ইউরোপের মানবতার দেশ হিসেবে সুপরিচিত ইতালির ভেনিসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর আয়োজনে জমকালো ভাবে মেজবান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

- Advertisement -nagad

বলা বাহুল্য, সুখ কিংবা দুঃখ উভয় কারণেই পাড়া–প্রতিবেশী, আত্মীয়–স্বজন ও বন্ধু–বান্ধবদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানোর নামই হলো মেজবান।

যুগ যুগ ধরে ঐতিহাসিকভাবে মেজবানি চট্টগ্রামের একটি অন্যতম ঐতিহ্যগত উৎসব যেখানে সাদা ভাত গরুর মাংস দিয়ে খাওয়ানোর জন্য অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অতিথিদের একাংশ

ঠিক কবে থেকে মেজবানের প্রচলন শুরু হয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে ধারণা করা হয়, ১৫০০–১৬০০ সালেও মেজবানের প্রচলন ছিলো।

বিজয় গুপ্তের ‘পদ্মপুরাণ‘ কাব্যগ্রন্থে শাহ বারিদ খানের রচনায় ‘মেজমান‘ এবং ‘মেজোয়ানি‘ শব্দ দুটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যা থেকে কালের পরিক্রমায় পরবর্তীতে ‘মেজবান‘ শব্দটি এসেছে।
তবুও অনেক আনন্দ নিয়ে চলতো মেজবানের আয়োজন। দূর দূরান্ত থেকে আত্মীয়–স্বজন এলাকার লোকজন মেজবান খেতে এসে অনেক আনন্দ পেতেন।

‘পানসালাহ‘র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেজবানের আগের দিন সন্ধ্যায় গরু জবাই করা হয়। সারারাত ধরে চলে রান্নার আয়োজন। খুবই উৎসব মুখর পরিবেশে মেজবানি খাবার রান্না করা হয়। রাতজেগে হইহুল্লোড়, হাসি তামাশা আর আনন্দে মেতে থাকেন ছোট থেকে বড়, পুরুষ আর মহিলা সকলেই। অনেক মানুষ রান্নার আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকেন। কেউ মসলা বাটেন, কেউ পেঁয়াজ–কাঁচামরিচ–ধনেপাতা কাটেন, কেউ মাংস কাটেন, কেউ নলা তৈরি করেন, কেউ শামিয়ানা টাঙ্গান,এভাবে আগের রাতেই মেজবানের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়। চট্টগ্রামে মেজবানে বিশেষ ধরনের মসলা ব্যবহৃত হয়। ব্যবহৃত মরিচ হলুদ ইত্যাদি মসলা চট্টগ্রামের বিশেষ অঞ্চলের বিশেষ স্বাদ যুক্ত হয়ে থাকে। মেজবানের মাংসে ব্যবহৃত হয় গুরুত্বপূর্ণ মসলা মরিচ যার উপরে মাংসের স্বাদ অনেকাংশেই নির্ভর করে।
এসময় উপস্থিত
ছিলেন বক্তব্য রাখেন সংগঠনে মহিউদ্দিন মিন্টু, সনদ বড়ুয়া, মোশাররফ হোসেন, নাছির উদ্দীন, ইসমাইল হোসেন সমুন, মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম সাব্বির, ফকরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আমজাদ হোসেন, নূর হোসেনের বাবুল, আবদুল হালিম, জয়নাল আবেদীন, দেলোয়ার হোসেন, সবেদর বড়ুয়া, অমিট বড়ুয়া, বাবুল বড়ুয়া, নন্দন বড়ুয়া, রুপক বড়ুয়া, সুকান্ত বড়ুয়া, আসিষ বড়ুয়া, আবদুল রহিম,নওশাদ প্রমূখ।
ইতালি ভেনিস হাজারো মেহমানের উপস্থিতিতে মেজবান বড় ধরনের মিলন মেলায় পরিণত হয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং কমিনিউটি সকল নেতৃবৃন্দ দলবেঁধে মেজবানে অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে খাওয়া, গল্প, আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে চট্টগ্রামবাসীরা পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য মেজবানির রান্না করে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন বাবুর্চি বিখ্যাত হয়েছেন।

সাধারণত ২২ থেকে ২৫ রকমের মসলা এতে ব্যবহার করা হয়। যার কারণেই মেজবানির রান্না বিশেষ সুস্বাদু হয়ে থাকে।
চট্টগ্রামের মেজবানের সংস্কৃতির প্রসার যেমন ঘটেছে তেমনি এর রং–রূপ ও অনেকাংশে বদলেছে।

আগতরা জানান, আমাদের বিশ্বাস আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক এই মেজবান এখনো পর্যন্ত তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এই মেজবানের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র। এর ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে বহমান থাকুক– এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

কয়েকটি ছবির বিভিন্ন এঙ্গেলে আগত অতিথিদের বিশেষ মুহূর্ত
- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »