30.1 C
Chittagong
Sunday, 19 April 2026
বাড়িTop Newsবন্যায় ১৩ জনের প্রাণহানি, পানিবন্দি সাড়ে ৩৪ লাখ মানুষ

বন্যায় ১৩ জনের প্রাণহানি, পানিবন্দি সাড়ে ৩৪ লাখ মানুষ

 

বাঁধ খুলে দেয়ায় ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে ৯ জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত চার জেলায় ছয়জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এখনো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে বন্যা কবলিতরা আশ্রয় নিচ্ছেন উঁচু জায়গা ও আশ্রয় কেন্দ্রে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

- Advertisement -nagad

ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। সেসব এলাকায় তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যয়। এর মধ্যে সাত জেলায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে কুমিল্লায় অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জেলায় ১৪টি আশ্রয়য় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে কুমিল্লার তিন উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

বুধবার থেকে কুমিল্লা নগর, লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার পরিস্থিতি অবনতি হতে শুরু করে। সেখানে দুজন বন্যার পানিতে তলিয়ে, একজন বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং একজনের মাথায় গাছ পড়ে মারা যান।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন নাঙ্গলকোট পৌরসভার দাউদপুর এলাকার বাসিন্দা কেরামত আলী (৪৫), কুমিল্লা নগরের ছোট এলাকার কিশোর রাফি (১৫) ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সোনাকাটিয়া গ্রামের কানু মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৩৪)। লাকসামে পানিতে তলিয়ে মৃত্যু হওয়া শিশুর নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন নাছিমা আক্তার।

বুধবার রাত থেকে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে ১০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে শত শত মাছের ঘের, আউশ ধান ও আমনের বীজতলা। এছাড়া আদর্শ সদর, লাকসাম, বুড়িচং, বরুড়া, দেবীদ্বার, মুরাদনগর ও দাউদকান্দির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার নদীর চর, তীরবর্তী শাকসবজির ক্ষেতসহ ফসল তলিয়ে গেছে।

কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের উপজেলা নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও চৌদ্দগ্রামের বেশিভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।চলমান বন্যায় ফেনীতে একজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা ইউএনবি।

আমাদের কুলাউড়ায় (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, কুলাউড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে আবদুল মুনাইম (৬) নামে এক শিশুর মৃতু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘরের পাশেই পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়।শিশু আবদুল মুনাইম উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের ভুকশিমইল গ্রামের শামসুদ্দিন আহমদের ছেলে।

জানা যায়, বন্যায় হাকালুকি হাওর এলাকায় ইউনিয়ন ভুকশিমইল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বসতঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে এবং সকলের অগোচরে মুনাইম ঘরের পাশে পানিতে ডুবে মারা যায়।ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »