গতকাল শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় মধ্যসাগরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পাঁচ দিন আগে বন্দরের ৭ নম্বর ডলফিন জেটিতে প্রথমে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিএসসির মালিকানাধীন আরেক জাহাজ ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’। এটি একটি অয়েল ট্যাংকার। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ ও ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ ট্যাংকার দুইটি ৩৮ বছরের পুরনো। এমটি সৌরভ ১১ হাজার ৬০০ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে নোঙরের অপেক্ষায় ছিল। ট্যাংকারটিতে ক্রুসহ মোট ৫০ জন কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, মধ্যরাতে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকার বাংলার সৌরভ।
ঘুমন্ত নাবিকরা জেগে দেখেন, জাহাজের সামনের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো জাহাজে বাজতে থাকে ইমার্জেন্সি সাইরেন। জাহাজের পেছনের অংশে জড়ো হতে থাকেন নাবিকরা। উদ্ধার সহায়তা চেয়ে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ক্যাপ্টেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কার্যালয়ের মোবিলাইজিং অফিসার কফিল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল পেয়ে আমরা তেলের ট্যাংকারে আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত হই।
উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই আতঙ্কিত নাবিকদের বেশ কয়েকজন সাগরে লাফিয়ে পড়েন। কয়েকজনকে উদ্ধার করে ফিশিং ট্রলারগুলো। পরে আসেন নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। উদ্ধার করা হয় জাহাজের ৪৮ নাবিককে। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদেক নামে এক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে ডেনমার্কে তৈরি ‘বাংলার জ্যোতি’ জাহাজটির সামনের দিকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে কাজ করে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড, কর্ণফুলী টানেল, বন্দর ও ফায়ার সার্ভিস। আগুনে বিএসসির নিজস্ব মেরিন ওয়ার্কশপের চার্জম্যান চট্টগ্রামের নুরুল ইসলাম, ৩০ বছর ধরে বিএসসিতে ডেইলিবেসিস কাজ করা কিশোরগঞ্জের মো. হারুণ, বরিশাল মেরিন একাডেমি থেকে পাস করে বের হওয়া ঝিনাইদহের ক্যাডেট সৌরভ কুমার সাহা। আগুন নেভানোর সময় আহত হন বন্দরের কাণ্ডারী ১০ টাগ বোটের লস্কর মো. সোহেল রানা। তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

