সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাসহ ৫ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনের আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছে আদালত।
শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ হাসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেয়।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদনে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন।”
আসামি চিন্ময় দাসের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্ব একটি দল। এদিন এই শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়।
পুলিশি নিরাপত্তায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীরা আদালতে প্রবেশ ও প্রস্থান করের।
এর আগে গত ৩ জুন পাঁচ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের আবেদনও আদালত নাকচ করে দেয়।
এই পাঁচটি মামলা হল- আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা এবং গত বছরের ২৬ নভেম্বরের ঘটনায় ভাংচুর-হামলা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পুলিশের করা তিনটি এবং আলিফের ভাই খানে আলমের করা আরেকটি মামলা।
তার আগে গত ৬ মে চিন্ময় কৃষ্ণকে ২৬ নভেম্বরের ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি মামলায় এবং আইনজীবী আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
এর একদিন আগে ৫ মে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন।
আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।
সহিংসতার ঘটনায় সেদিন রাতেই তিনটি মামলা করেছিল পুলিশ। আর ২৯ নভেম্বর আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা করেন তার বাবা জামাল উদ্দিন।
সেদিন আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন আলিফের ভাই খানে আলম, যেখানে ১১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।
সিএনবিএন /সি/ এলএম

