স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সিএনএন বাংলাদেশ :: বৈরী আবহাওয়া ও বকেয়া পরিশোধ সংকটে এলএনজি আমদানি কমে গেছে। আর এতে এলএনজি নির্ভর চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট প্রকট হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, আমদানিকৃত জ্বালানী এলএনজি দিয়ে চট্টগ্রামের প্রায় শিল্প কারখানা, যানবাহন ও বাসা বাড়িতে গ্যাসের চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে। যা বন্ধ হলে এই অঞ্চলে জ্বালানি সংকটে তীব্র হাহাকার শুরু হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪.৯৬ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে, যা আগের বছরে ছিল ৬.৮২ লাখ টন।
আমদানি বাবদ খরচ ১ হাজার ২৫৮.৮৭ কোটি টাকা কমে ৩ হাজার ৪৪৬.৬১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৭০৫.৪৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলএনজি আমদানি থেকে রাজস্ব আয় ১৮৮.৮৩ কোটি টাকা কমে ৫১৬.৯৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা দিনে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলা মূলত কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি করে। প্রতি চালানে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ঘনমিটার এলএনজি আমদানি করা হয়।
জ্বালানি কর্মকর্তারা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলএনজি আমদানি কমার একটি বড় কারণ ছিল বৈদেশিক মুদ্রার সংকট। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলএনজি আমদানির বকেয়া বিলের পরিমাণ ছিল ৬৩৩ মিলিয়ন ডলার। এর ওপর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক না হওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির অনুমোদন আটকে ছিল।
বকেয়ার পরিমাণ বেশি থাকায় গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ও ৯ সেপ্টেম্বর দুই কার্গো এলএনজি খালাস না করে সরবরাহকারী দেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপে তা খালাস করা হয়।
তবে এলএনজির আমদানি বিল পরিশোধ-সংক্রান্ত জটিলতা এখন অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন আরপিজিসিএলের একজন উদ্ধতন কর্মকর্তা। ফের এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিএনবিএন / এক্সক্লুসিভ / সিএল

