সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট :: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, ডাক্তারদের কোনো দল থাকতে পারে না। সবার ওপরে তারা ডাক্তার। তাদের মানবিক হতে হবে। সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সৎ থাকতে হবে।
শুক্রবার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে কনফারেন্স রুমে কার্যনির্বাহী কমিটি, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে অবহিত করেন এবং হাসপাতালের গ্রান্ট ইন অ্যাইড খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। এদিন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের এনআইসিইউ, পিআইসিইউসহ কয়েকটি বিভাগ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, চট্টগ্রামে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা খুবই অপ্রতুল। সরকারি পর্যায়ে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ওপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে। এটা চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তবে করোনা মহামারিতে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের অবদান প্রশংসনীয়।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত একটা অর্থনীতি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তারপরও আমরা সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারের আর্থিক অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা স্বাস্থ্যখাতে অনেক কাজ করে যাচ্ছি। হার্টের রোগীদের রিং এর দাম কমানো হয়েছে, ক্যান্সারের ওষুধসহ অনেক ওষুধের দাম কমানো হয়েছে।
নূরজাহান বেগম বলেন, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো ঢাকা কেন্দ্রিক। এক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রামে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা বা বিশেষায়িত হাসপাতাল করার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এটি চিকিৎসা সেবায় চট্টগ্রামবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। করোনাকালীন করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে সবকিছুতেই একটা চরম অস্থিরতা কাজ করছে। এটা আমাদের মানসিক দৈন্যতা। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও উপদেষ্টার একান্ত সচিব ডা. মো. মনজুরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল ইসলাম, হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (ডোনার) ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান রানা, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি মো. জাহিদুল হাসান, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মোহাম্মদ সাগির, ডোনার মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার মো. জাবেদ আবছার চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. এটিএম রেজাউল করিম, মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল প্রফেসর এএসএম মোস্তাক আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল প্রফেসর অসীম কুমার বড়ুয়া, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. নূরুল হক, পরিচালক (মেডিকেল এফেয়ার্স) ডা. একেএম আশরাফুল করিম, উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন প্রমুখ।

