সাগর বড়ুয়া, উত্তর চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত কর্মীদের মধ্যে শনিবার রাতের ঘটনা মীমাংসার জন্য সম্প্রীতি বৈঠকের আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভবিষ্যতে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে উভয়পক্ষ একমত হন, ফলে তুলে নেয়া হলো ১৪৪ ধারা।
আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাটহাজারী উপজেলা মিলনায়তনে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মুমিন।
তিনি আরো বলেন, সব পক্ষই সমঝোতায় এসেছে। তাই ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গতকালের ঘটনার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।
এর আগে আজ বিকেল সোয়া পাঁচটায় ইউএনওর সভাপতিত্বে এই সভায় হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক শুরু হয়। পরে প্রায় দুইঘন্টা ব্যাপি বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত আসে।
সিদ্ধান্তগুলো হলো— ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের চিকিৎসা, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আগে সমন্বয় কমিটি গঠন। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে উচ্চশব্দে মাইক না বাজানোর সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং গাড়িও চলছে ঠিকঠাক। পুলিশ, র্যাব এবং আর্মির টহলও চলমান বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারিক আজিজ।
এর আগে শনিবার রাতে হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে এক যুবকের অশোভন অঙ্গভঙ্গির ছবি ফেসবুকে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সুন্নি জনতার মাঝে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরে রাত ১০টায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। যা আজ রবিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
সিএনবিএন /হাট/উপ/ সিএল

