25.8 C
Chittagong
Saturday, 4 April 2026
বাড়িTop Newsনোবেল পুরস্কার কি তবে শান্তির বার্তা বহন করছে, নাকি সংঘাতের?

নোবেল পুরস্কার কি তবে শান্তির বার্তা বহন করছে, নাকি সংঘাতের?

নিজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে উসকালেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মাচাদো !

  CNN Bangladesh

অনন্ত হাসান মাসুদ, অতিথি প্রদায়ক :: এক মাসও হয়নি, তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। কিন্তু এই সম্মান পাওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ, শান্তির পুরস্কার জেতার পরই নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানি দিয়েছেন! ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য ভক্ত হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে তিনি স্বাগত জানাবেন। নোবেল পুরস্কার কি তবে শান্তির বার্তা বহন করছে, নাকি সংঘাতের?

- Advertisement -nagad

আরটি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বলছে, ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি দেশটির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মাচাদো। এক সাক্ষাৎকারে তাকে যখন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি বলেন “এই উত্তেজনা মাদুরোকে এটা বোঝাতে বাধ্য করার একমাত্র উপায় যে তার চলে যাওয়ার সময় এসেছে।” মাচাদো মাদুরোকে ‘অবৈধ’ এবং ‘মাদক সন্ত্রাসবাদী কাঠামোর প্রধান’ হিসেবে দাবি করে প্রচলিত উপায়ে ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, মাদুরো সরকার মাচাদোকে মার্কিন তহবিলপ্রাপ্ত একটি ফ্রন্ট বলে অভিযোগ করেছে। পরিস্থিতি এমন, যে মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ঠেকাতে চীন, রাশিয়া এবং ইরানের মতো দেশের সাহায্য চাইছেন। তবে এটি প্রথম নয়, এর আগেও নিজ দেশের সরকারের পতন ঘটাতে বিদেশী সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন মাচাদো। ২০১৮ সালেও তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে সরাসরি সামরিক হামলার আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সরকারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

২০০৫ সালে তিনি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশের সঙ্গে ওভাল অফিসে সাক্ষাৎ করেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, যে দিন তাকে নোবেল বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, সেদিনই তিনি নিজের নোবেল পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন। একজন গণতন্ত্রপন্থি নেত্রীর এমন আগ্রাসী মনোভাব এবং আন্তর্জাতিক ঘনিষ্ঠতা, প্রশ্ন তুলেছে তার নোবেল পুরস্কারের যৌক্তিকতা নিয়ে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পটভূমিতে মাচাদোর এই সামরিক হামলার উসকানি ভেনেজুয়েলাকে গৃহযুদ্ধ এবং চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »