নিউজ ডেস্ক, সিএনএন বাংলাদেশ :: আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মারফতে পর্যবেক্ষণ করে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ জানতে পেরেছে, গতকাল চট্টগ্রামের প্রবীণ জামাত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে পুলিশ-প্রশাসনকে জামাতের দলীয় নেতাদের নির্দেশে উঠবস করা, কাউকে মামলা দেওয়া এবং গ্রেফতার করার কথা বলেছেন। সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় মার্কার প্রচার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্থানীয় জামাত প্রার্থীর কথামতো উন্নয়ন বরাদ্দ প্রদানের কথা বলেছেন।
গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এনসিপি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে বলে উল্লেখ করে বলেন, শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে পুলিশ-প্রশাসনকে নির্বাচনকালীন দলীয় লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার নিন্দনীয় অভিপ্রায় পরিলক্ষিত হয়েছে। নেতৃবৃন্দ এ ধরনের ঘৃণ্য প্রচেষ্টার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, রাজনৈতিক ফায়দা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা আর চলবে না।
তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জন্য কাঙ্খিত স্বপ্ন ছিলো নতুন বাংলাদেশ বিনির্মান। আমরা সেই লক্ষ্যে জনগণের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবসময়ই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রশাসনের নিরেপক্ষতা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থেকেছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি- চট্টগ্রাম মহানগর সবসময়ই মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ-প্রশাসন কোন একক দলের গোলাম নয়। পুলিশ-প্রশাসন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে জনগণের সেবক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবে, কোন একক দলের গোলাম হবে না।
প্রশাসনকে দলীয়করণ করার প্রচেষ্টাকে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বড় বাঁধা। আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যক্তিগত এবং দলীয় বাহিনী করার মতো প্রচেষ্টার নিন্দা জানাই এবং উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই। আমরা আশা করছি বর্তমান সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসকে দলীয় প্রভাব মুক্ত রাখবেন, সুষ্ঠু এবং নিরেপক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করবেন।

