পটিয়া প্রতিনিধি:পটিয়ায় জনতার হাতে ধরা পড়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী আবদুর রউফ ভূট্রোর দুই সহযোগী। আটককৃতরা হলেন কোলাগাঁও ইউনিয়নের নাছিরের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২০) ও একই এলাকার নুরুল আজিমের ছেলে মহিউল আজম মাহী (১৯)। বর্তমানে তারা দুইজন পটিয়া থানা হেফাজতে আছেন। তাদেরকে আগামীকাল সোমবার আদালতে পাঠানো হবে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার রাত দশটার দিকে উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব কোলাগাঁও এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ দিন আগে কোলাগাঁও ইউনিয়নের নলান্দা ও পূর্ব কোলাগাঁও এলাকার ফজল আজিম ও আবুল হাসেম মেম্বারের ছেলে আবুল মনসুরের ঘরসহ কয়েকটি ঘর ও কাঁচারি পুরুর পাড়ে ডেইরি ফার্মের গরু চুরি হয়। এই অবস্থায় বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজন নাছের আহম্মেদের ছেলে সাকিব, নুরুল আজিমের ছেলে মাহীর কাছ থেকে কৌশলে অবৈধ অস্ত্র, কিরিচ, গ্রীল কাঁটার যন্ত্রসহ স্হানীয়রা আটক করে।
তারা পটিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যাবসায়ী আবদুর রউফ ভুট্টোর ঘনিষ্ট সহযোগী। এসময় অবৈধ অস্ত্র ব্যাবসায়ী সাজ্জাদ ওরফে কালা সাজ্জাদ, কোলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ইমন, মিজান ও মেম্বার বশর উপস্থিত হয়ে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অবৈধ জিনিসপত্র তাদের জিন্মাই নেন। এরপর আটককৃতদের পরিবারের কাছে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার অযুহাতে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। রাতেই তাদের পরিবারের সদস্যরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করাই তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অবৈধ অস্ত্র ও চুরি ডাকাতির কাজে ব্যবহ্ত জিনিসপত্র লুকিয়ে রেখে পুলিশের হাতে দেননি বলে অভিযোগ স্হানীয়দের।
এদিকে স্হানীয়রা অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকৃত অবৈধ অস্ত্রটি সাজ্জাদ এবং ইমনের হেফাজতে নিয়ে যায় ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী ভুট্টোর লোক ছাত্রলীগ নেতা ইমন ও কালা সাজ্জাদ। তারা সরকার পতনের পর থেকেই এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা কালারপুল পুলিশ ফাঁড়িকে ম্যানেজ করে এলাকায় বীরদর্পে এখনো বহাল তবিয়তে বিভিন্ন অবৈধ দখলদারত্বের রাজত্ব কায়েম করে চলছেন। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় পটিয়া থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, কোলাগাঁও এলাকায় স্হানীয়রা দুই চোরকে ধরে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দিলে আমরা তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

