নতুন বছর ২০২২ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ চাঙা হয়ে ওঠেছে। বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে জ্বালানি তেলের দামে বড় উত্থান হওয়ার পর ফেব্রুয়ারির শুরুতেও দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এতে দফায় দফায় দাম বেড়ে সবধরনের জ্বালানি তেলের দাম নতুন উচ্চতায় উঠেছে। এক’শ ডলারের কাছাকাছি চলে এসেছে অপরিশোধিত তেল ও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম। জ্বালানি তেলের এমন দাম ২০১৪ সালের পর আর দেখা যায়নি।
গেল এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় পাঁচ শতাংশ। আর হিটিং অয়েলের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ। এর আগে চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল দাম বাড়ে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ। আর হিটিং অয়েলের দাম বাড়ে ৫০ শতাংশের ওপরে।
ফলে বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে এখন অপরিশোধিত তেল ৬১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আর হিটিং অয়েলের দাম বেড়েছে ৬৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ দিয়ে নতুন বছর ২০২২ সাল শুরু হয়। বছরের প্রথম সপ্তাহেই প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠে আসে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ৮৪ দশমিক ২৬ ডলারে।
অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলর দামও নতুন বছরে প্রথম পাঁচ সপ্তাহ টানা বেড়েছে। বছরের প্রথম সপ্তাহে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮১ দশমিক ৭৬ ডলারে ওঠে আসে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দাঁড়ায় ৮৬ দশমিক ৪৭ ডলারে।
বছরের তৃতীয় সপ্তাহে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৮৯ ডলারে ওঠে আসে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম। চতুর্থ সপ্তাহে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৮০ ডলারে। আর গেল এক সপ্তাহে ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৭৯ ডলারে।
অপরদিকে, গেল এক সপ্তাহে ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন হিটিং অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৭ ডলারে। এর আগে বছরের সপ্তাহে হিটিং অয়েলের দাম বাড়ে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। দ্বিতীয় সপ্তাহে বাড়ে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, তৃতীয় সপ্তাহে বাড়ে ২ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং চতুর্থ সপ্তাহে বাড়ে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এর আগে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিলে ২০২০ সালের ২০ এপ্রিল বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতনের মধ্যে পড়ে তেল। সে দিন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ঋণাত্মক ৩৭ ডলারের নিচে নেমে যায়।
রেকর্ড এ দরপতনের পরেই অবশ্যই তেলের দাম বাড়তে থাকে। এতে রেকর্ড দরপতনের ধকল সামলে ২০২০ সালের বেশিরভাগ সময় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ ডলারে আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল।
কিন্তু বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বাড়ায় ও লিবিয়ার তেল উত্তোলন বাড়ার মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে অপরিশোধিত ও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়।
তবে, এ পতনের ধকল কাটিয়ে ওই বছরের নভেম্বর থেকে আবার তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। অবশ্য প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ ডলারের নিচে থেকেই ২০২০ সাল শেষ হয়।
আর ২০২১ সালের শুরুতেই তেলের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কয়েক দফা দাম বেড়ে করোনার মধ্যে প্রথমবার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০ ডলারে উঠে আসে। এর মাধ্যমে মহামারি শুরু হওয়ার আগের দামে ফিরে যায় তেল।
তবে গত বছরের জুন থেকে তেলের দাম বাড়ার প্রবণতায় নতুন হাওয়া লাগে। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর গত বছরের জুনে করোনার প্রকোপের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল ৭৫ ডলারে উঠে আসে। জ্বালানি তেলের এ দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে পরের কয়েক মাস। এতে গত বছরের অক্টোবরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলার স্পর্শ করে। যার মাধ্যমে ২০১৪ সালের নভেম্বরের পর আবারও অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল ৮০ ডলারের দেখা পায়।

