সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে দিনভর সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্যে সারা দেশের ২৭ থানা, ফাঁড়ি, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও রেঞ্জ অফিস ভাঙচুর হওয়ার তথ্য দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
আজ রবিবার অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনই বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পুলিশের তথ্য অনুসারে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে,এ সংখ্যা আরো বেশিও হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিবর্গ। আহতদের সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি। আজ সকাল থেকেই সারাদিন সংঘর্ষ আর সংঘর্ষ, পুরো দেশ জুড়েই সংঘর্ষ এবং জ্বালাও পোড়াও হয়েছে সবখানে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ মিলে আন্দোলনকারীদের দমন করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যভুষিত হতে দেখা যায়। দিনশেষে যেন পুরো দেশ ছিল আন্দোলনকারীদের দখলে।
এই সংঘাত-সংঘর্ষে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে।এছাড়া হামলায় সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো তথ্য অনুসারে আক্রান্ত থানা, ফাঁড়িগুলো হলো—ডিএমপির যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁও থানা, টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানা, বগুড়ার সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানা এবং নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি, জয়পুরহাট সদর থানা, কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা, রংপুরের গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও গংগাচড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ থানা, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর থানা, হবিগঞ্জের মাধবপুর ফাঁড়ি, ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিস, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর থানা।

