পটিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় চাঁদাবাজি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান এলাকায় আলোচনার ঝড় তুলেছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পটিয়া থানা পুলিশ ও পটিয়া সেনা ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে আলোচিত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী মোকাম্মেল হক তালুকদার (৪৯) সহ মোট তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সাকিবের নেতৃত্বে একটি অভিযানে চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপের সাথে জড়িত আশিয়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোকাম্মেল হক তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়।
পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দায়ের হওয়া পটিয়া থানার চাঁদাবাজী ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামী মোকাম্মেল হক তালুকদারকে উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের পূর্ব আশিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী একই এলাকার মো. আরাফাত (২৬) কেও আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একই দিন পৃথক আরেকটি অভিযানে পটিয়া থানার আরেকটি মামলার আসামী খাইরুল ইসলাম মুন্না (২৭) কে আশিয়া ইউনিয়নের নুর উদ্দীন মুন্সীর বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
যৌথ বাহিনীর তথ্যমতে, মোকাম্মেল হক তালুকদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর খাইরুল ইসলাম মুন্নার বিরুদ্ধে রয়েছে ২টি মামলা আছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, পটিয়ায়
চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। মোকাম্মেলসহ তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও অপহরণের মাধ্যমে জনসাধারণকে আতঙ্কে রাখছিল। আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। জননিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। তাদেরকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পটিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাপটেন সাকিব বলেন, এলাকাকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশ ও আর্মির যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, পটিয়ার আশিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোকাম্মেল ও তার সহযোগীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কে ছিল। তাদের গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আশিয়া বাংলা বাজারের একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, চাঁদাবাজির কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছিল। মোকাম্মেলের গ্রেফতার আমাদের জন্য স্বস্তির খবর। আমরা চাই এ ধরনের অভিযান আরও হোক।”
এলাকার একজন কৃষক ভুক্তভোগী বলেন, রাতের বেলা ঘর থেকে বের হতেও ভয় পেতাম। এখন আশা করছি শান্তি ফিরে আসবে।

