32.4 C
Chittagong
Saturday, 4 April 2026
বাড়িTop Newsগণভোট নিয়ে এত বিতর্ক কেন? গণভোট আসলে কী?

গণভোট নিয়ে এত বিতর্ক কেন? গণভোট আসলে কী?

কাকে বলে গণভোট? হ্যাঁ –না ভোটের সত্যিকার অর্থটা কী?

  CNN Bangladesh

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,  সিএনএন বাংলাদেশ :: যতই দিন যাচ্ছে একটি শব্দকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। আর তা হলো গণভোট। রাজনৈতিকগুলো গণভোটের পক্ষে একমত হলেও তা জাতীয় নির্বচনের আগে না একসঙ্গে হবে এনিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌছাতে পারেনি। গণভোট বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবু কেন একে নিয়ে এত দ্বিধা বিভক্তি। গণভোট আসলে কি ?

- Advertisement -nagad

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনমত যাচাই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই গণভোট। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করে ব্যালটে ‘হ্যাঁ’অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে মতামত দেয়। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছিল প্রশাসনিক এবং একটি সাংবিধানিক গণভোট। কেমন ছিল সেই ৩ টি গণভোট ?

বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকাজের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। ভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণ জানান, রাষ্ট্রপতি এবং তার নীতি ও কর্মসূচির প্রতি তারা আস্থা রাখেন কি না। তখন দেশের মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৮৪ লাখ। ভোট পড়ে ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ, ‘না’ ভোট ছিল মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। এটি ছিল প্রশাসনিক গণভোট।

দ্বিতীয়বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেঃ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য জেনারেল এরশাদের ছবিসহ ‘হ্যাঁ’ বাক্সে এবং আস্থা না থাকলে ‘না’ বাক্সে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ‘না’ ভোট ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এটিও ছিল প্রশাসনিক গণভোট।

১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতন হলে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ভোটে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংসদীয় পদ্ধতিকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দেন। এটি ছিল সাংবিধানিক গণভোট।

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা বিভিন্ন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করলে গণভোটের বিষয়টি সামনে আসে। রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত অংশটুকুই গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। মূলত সংস্কারের বৈধতা নিশ্চিত করতে গণভোটের প্রস্তাব দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তাহলে কেমন হবে এই গণভোটের রূপরেখা ?

এক কথায় বলা যায় জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে ৪৮ টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন এই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন এবং প্রক্রিয়া নির্ভর করবে জনগনের মতামতের ভিত্তিতে আর জনগন তার মতামত জানাবে গণভোটের মাধ্যমে। এখানেই আসে হ্যা এবং না ভোটের প্রসঙ্গ।

গণভোটের ব্যালটে মূলত যে প্রশ্নটি থাকবে তা হলো আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে উল্লেখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে নির্ধারিত বাক্সে প্রদান করতে হবে। এটি হবে সাংবিধানিক গণভোট।

পূর্বের গণভোটগুলো নিয়ে নানা মত প্রচলিত থাকলেও এবার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন জনগণ চায় কি-না তা যাচাইয়ের জন্য যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলো গণভোট চাইছে অর্থাৎ সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিনে কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণভোট হলে তাতে জনমতের প্রতিফলন পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ।

- Advertisment -

সর্বশেষ

Translate »