স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সিএনএন বাংলাদেশ :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে দলটি। মোট ২৩৭ টি আসনের প্রার্থীদের নামের তালিকা পড়ে শোনান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন বর্ষীয়ান এই নেতা।
মঙ্গলবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন তিনি। সেখানে লেখেন— “এই নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন।” দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যাঁরা মনোনয়ন পাননি, তাঁদের জন্যও দলের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। তিনি দোয়া চান নিজের জন্য, দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য।
রাজনীতির দীর্ঘ চার দশকের পথচলায় দুঃখ-স্মৃতি আর ত্যাগের গল্প উঠে আসে ফখরুলের লেখায়। তিনি স্মরণ করেন নিজের পরিবারের কথা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংগ্রামের দিনগুলো। রাজপথে, কারাগারে কিংবা মঞ্চে—সব জায়গাতেই দলের পক্ষে লড়াই করে গেছেন নিরলসভাবে। তাঁর মতে, রাজনীতি শুধু ক্ষমতার নয়, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার নাম।
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিজয়ী হন তিনি। বিএনপির সরকারের সময় তিনি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিন জেল-জুলুম, দমননীতি ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ছিলেন দলের প্রধান মুখপাত্র ও আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারি।
এখন, জীবনের শেষ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন এক যুগের সমাপ্তি টানলেন— কিন্তু তাঁর অবদান, দৃঢ়তা ও ত্যাগের গল্প বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

