চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে এবার কাপনের কাপড় মাথায় নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে তৃণমূল বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী। এ দাবিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন, কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে মশাল মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করছেন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। পরিস্থিতি ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ৬টি আসনে এখনো মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি। ঘোষিত কয়েকটি আসনেই প্রার্থী নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম-১৩ আসন। ২১শে নভেম্বর (শুক্রুবার) বিকেলে সরোয়ার জামাল নিজামকে বয়কটের ডাক দিয়ে এবং তার প্রার্থীতা বাতিলের দাবীতে আনোয়ারা উপজেলার চায়না রোড মোড় থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মিছিলটি চৌমুহনী মোড়ে এসে বিশাল জন সমাবেশে রূপ নেয়। বিক্ষোভ মিছিলে আনোয়ারা-কর্ণফুলীসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশ নেয়। এসময় নেতাকর্মীদের মাথায় কাফনের কাপড় ও হাতে বয়কট সরোয়ার জামাল নিজাম নামে ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। বিক্ষোভে অংশ নেয়া প্রবীন বিএনপি নেতা আবুল খায়ের বলেন যত তাড়াতাড়ি সরোয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিল করে এ সমস্যা নিষ্পত্তি করা হবে ততই দলের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তিনি মনে করছেন, ফেব্রুয়ারীর ৫তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সময় আর বেশি নেই। এ মূহুর্তে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত জরুরী। মনোনয়ন নিয়ে এ দ্বন্দ্ব বেশিদিন গড়ালে বিএনপিকে চট্টগ্রাম-১৩ আসনটি হারাতে হবে বলে আশংকা করছেন তিনি। তাই দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নিকট আকুল আবেদন জানান তিনি। তাছাড়া বিক্ষোভে অংশ নেয়া আরো কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, এ আসনে মনোনয়ন পাওয়া সরোয়ার জামাল নিজাম দলের দুঃসময়ে থাকেন বিদেশে আরাম আয়েশে। সুসময়ে এসে অসৎ পন্থায় ভিন্ন কৌশলে মনোনয়ন ভাগিয়ে নেয় বার বার। তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক ও সুবিধাবাদী ব্যক্তি। তার সাথে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি। অচিরেই তাকে দেয়া প্রাথমিক মনোয়ন প্রত্যাহার করে বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কোনো নেতাকে ধানের শীষের প্রতীকে মনোনিত করা দাবী জানান তারা।
গত ১৩ই নভেম্বর সরোয়ার জামাল নিজামের মনোয়ন প্রত্যাহার চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নিকট লিখিত চিঠি প্রেরণ করেন মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনজন বিএনপি নেতা। তারা হলেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক আলী আব্বাস, কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এস এম মামুন মিয়া। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরোয়ার জামাল নিজাম ২০২৩সালের ১৮ই অক্টোবর বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং আওয়ামী ক্লিয়ারেন্সর ভিত্তিতে ২৩শে জানুয়ারী ২০২৪ সালে আমি-তুমি-ডামি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন। চিঠিতে তারা দাবী করেন, সওয়ার জামাল নিজাম ইতিপুর্বে আওয়ামী নেতা ছিলেন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জমান চৌধুরী বাবুর নৌকা প্রতীকের প্রধান এজেন্ট ছিলেন। তার ভ্রমন ইতিহাস পর্যালোচনা করলে ভারতের সাথেও তার সম্পৃক্ততার প্রমান পাওয়া যায়। চিঠিতে আরো বলা হয়, সরোয়ার জামাল নিজামের মতো স্বার্থপর, বেঈমান সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের বিএনপি কর্তৃক মনোনিত করায় দলের দুঃসময়ের মজলুম নেতাকর্মীদের উপর চরম অন্যায় ও অবিচার হয়েছে। গত ১৩ই নভেম্বর আনোয়ারা কালাবিবির দিঘীর মোড় থেকে কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করা হয়। এসময় সরোয়ার জামাল নিজামের কুশপত্তলিকা দাহ এবং ব্যানার ফেস্টুনে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে কারা নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রফিক ডিলার, আবুল কাসেম, মোস্তাক আহমেদ, জামাল হোসেন, জয়নাল, কাসেম, সৈয়দ, মুজিব, জীবন, মোহাঃ মারুফ, মোহা: ইমন, আবুল কালাম, মো: তারেক, এরশাদ, শফিউল, ইউচুপ, এরফানুর রশীদ, রুবেল, মোহা: আবছার, হাসান, মহিউদ্দিন, তৌহিদ, নয়ন, মালেক, শামসুল, দস্তগীর, হোসেন, খোরশেদ, জিসান, তুহিন, মালেক, সাগর ও খালেদসহ প্রমুখ।

