স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সিএনএন বাংলাদেশ :: বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক নামকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা —বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া। উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবারের মধ্যেই তাঁর লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু শেষ মুহূর্তে সবকিছুই উল্টে গেল। কাতারের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি ত্রুটি, নতুন বিমানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন, আর তাঁর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি—সব মিলিয়ে লন্ডন যাত্রা এখন অনিশ্চয়তার দড়িতে ঝুলে আছে। রোববার কি পাওয়া যাবে সবুজ সংকেত? নাকি আবারও পিছিয়ে যাবে যাত্রার সময়?
প্রথমে কাতারের আমির পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল খালেদা জিয়ার। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে জানানো হয়—বিমানটিতে কারিগরি ত্রুটি, ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হবে। একই সময় অবনত হয় তাঁর শারীরিক অবস্থাও। এই দুই কারণে যাত্রার দিন পিছিয়ে যায়। পরে জানা গেল—আগের সেই অ্যাম্বুলেন্স আর নয়, বরং প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কাতার সরকার নতুন করে ব্যবস্থা করেছে জার্মানির একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের। সেটি আসবে জর্জিয়া থেকে। তবে সেটিও কবে ঢাকায় পৌঁছাবে—তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার লিভার, কিডনি ও ফুসফুস খুব জটিল অবস্থায় রয়েছে। ২৭ নভেম্বর থেকে তিনি সিসিইউতে। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত মেডিকেল টিম তাঁর চিকিৎসা চালাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন—এয়ারক্র্যাফটের সমস্যা যেমন আছে, তেমনই খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাও এখন উড়োজাহাজে ভ্রমণের উপযোগী নয়। মেডিকেল বোর্ড অনুমতি দিলেই রোববার তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
কিন্তু এখানেই নতুন শঙ্কা। জার্মানির যে ‘চ্যালেঞ্জার–৬০’ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনা হচ্ছে, সেটিতে রোগীর সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন সর্বোচ্চ চারজন। অথচ আগে পরিকল্পনা ছিল প্রায় ১৫ জন যাবেন, যার মধ্যে ডাক্তার ও সেবাদাতা ছিলেন। এ নিয়ে নতুন করে ভাবনায় পড়েছে বিএনপি।
এরই মধ্যে লন্ডনযাত্রায় সঙ্গী হতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে শাশুড়ির পাশে সময় কাটান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে সভাও করেন।
সব মিলিয়ে—এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দেরি, শারীরিক অবস্থার অনিশ্চয়তা আর ভ্রমণ-সক্ষমতার প্রশ্ন… খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা এখনও ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দড়িতে। রোববার কি সবুজ সংকেত মিলবে? নাকি আবার পিছিয়ে যাবে যাত্রা—এটাই এখন সবার নজরের কেন্দ্রে।

