বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে দণ্ডপ্রাপ্তদের দণ্ডমুক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ড. ইউনূসের দায়িত্বগ্রহণের পর প্রবাসীদের দণ্ডমুক্ত করতে পারাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও গত ৩১ মের মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেনি, তাদের দেশটিতে পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে আশ্বাস আদায় করতে পেরেছেন ড. ইউনূস।
তবে ইতালির ভিসা প্রার্থীদের নিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছে সরকার। কেননা, ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাসে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভিসা আবেদনকারীদের আবেদন সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।
ইতালির ভিসা প্রার্থীদের সমাধান কবে? ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাসে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি কাজ সংক্রান্ত ভিসার আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। দূতাবাসে ভিসা আবেদনকারীরা তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারকে তাগাদা দিচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ইতালি ভিসা প্রার্থী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনিষ্পন্ন ভিসার আবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে ঢাকার ইতালীয় দূতাবাস। আগামী দুই মাসের মধ্যে ২০ হাজার ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক পাসপোর্ট ফেরত দেবে দূতাবাস। দূতাবাসে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি কাজ সংক্রান্ত ভিসার আবেদন বিবেচনাধীন।
১৭ হাজার কর্মীর কপাল খুলল: সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও ১৭ হাজারের বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেনি। মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা এসব কর্মীরা প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছেন। আক্ষেপ ছিল মনে। মাস চারেক পর এসব কর্মীদের জন্য সুখবর এল মালয়েশিয়া থেকে। আর সেটা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে।
সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বাস দিয়েছে, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যেতে না পারা প্রায় ১৮ হাজার কর্মী দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। আর এই আশ্বাস মিলেছে ড. ইউনূসের অনুরোধে।
প্রসঙ্গত, চার মাস আগে ভিসা পাওয়া এবং সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও মালয়েশিয়ার বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে (৩১ মে ২০২৪) দেশটিতে যেতে পারেননি বাংলাদেশের ১৭ হাজারের বেশি কর্মী।
মধ্যপ্রাচ্যের কর্মীদের জন্য বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ: অন্তর্বর্তী সরকার মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের জন্য ঢাকার বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামীদের জন্য বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ চালুর কথা রয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব শ্রমিক ভাই-বোন যাচ্ছেন তাদের জন্য বিমানবন্দরে আলাদা স্পেশাল লাউঞ্জের ব্যবস্থা করব। আমরা ইতোমধ্যে জায়গা ঠিক করেছি, সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে।
আসিফ নজরুল বলেন, লাউঞ্জ হলে প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনদের যন্ত্রণা অনেক লাঘব হবে। এর পাশাপাশি অন্যান্য যে ভিআইপি সুবিধা সেগুলোও থাকবে। বিমানবন্দরে প্রবেশের মুহূর্ত থেকে প্লেনে ওঠার আগ পর্যন্ত যে লাউঞ্জ থাকে সেই পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে তাদের সঙ্গে একজন লোক থাকবে সহায়তার জন্য।
প্রবাসে সাজাপ্রাপ্তদের পুনর্বাসন করবে সরকার: গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিদেশে সাজা পেয়ে দেশে ফিরেছেন আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওনাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব। ইতোমধ্যে যারা ফিরে এসেছেন, ৮৭ জনকে তালিকাভুক্ত করতে পেরেছি। আমরা ওনাদের বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।
আসিফ নজরুল বলেন, প্রবাসীকল্যাণ স্কিম আছে, একটা ব্যাংক আছে, একটা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আছে, বিএমইটি আছে। মোট কথা, আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওনাদের কর্মসংস্থান বা ব্যবসার উদ্যোগ হোক সে ব্যবস্থা করব। দরকার হলে বেসরকারি খাত আছে, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

