শামীম রেজা, যশোর:: বয়স মাত্র ৭ বছর। নাতনি জনৈক প্রথমাকে বেড়ানোর কথা বলে অচেনা এক জায়গায় নিয়ে যান নানা হাফিজুল। কেন তাকে এই অচেনা জায়গায় নিয়ে আসা হলো, কিংবা তার সাথে ঠিক কী হতে যাচ্ছে, তার কোনো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না নিষ্পাপ এই ছোট্ট শিশুটি। হঠাৎ ঘরে ঢুকলেন নানা হাফিজুল এবং ঝাঁপিয়ে পড়লেন এক নরপিশাচের মতো। শুনতে অবাক লাগলেও এক নির্মম সত্য যে, সেখানে নিয়ে ছোট্ট এই মানুষটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। যে হাত আগলে রাখার কথা ছিল, সেই হাতই ছিঁড়ে খেলো একটি ফুলের মতো জীবনকে। এমন ভয়ংকর অভিযোগকে ঘিরে রিতিতমতো তোলপাড় নেটদুনিয়া !
ঘটনার বিস্তারিত জানলে শিউরে উঠতে হয়, নাজির শংকরপুর এলাকার নানি বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত শিশু প্রথমা। সোমবার রাত ৯টার দিকে তাকে কৌশলে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি বাসায় নিয়ে যান ৪০ বছর বয়সী হাফিজুল। সেখানে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন, যা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। মঙ্গলবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা ও আইনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
ঘটনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম শাফায়েত হোসেন জানিয়েছেন, শিশুটি এখন শারীরিক সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে কিছুটা বিপদমুক্ত হলেও ট্রমা কাটতে সময় লাগবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে ওষুধ ও আইনি সহায়তার জন্য সব ধরনের প্রাথমিক এভিডেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার জানাজানি হতেই জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্ত হাফিজুলকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার নিশ্চিত করেছেন যে, মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
সমাজের এই রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া বিকৃতি আর কত শিশুর শৈশব কেড়ে নেবে, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে। নিজ আত্মীয়ের কাছেও যখন একটি শিশু নিরাপদ নয়, তখন পারিবারিক সচেতনতা আর দ্রুত বিচার ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি।

